![]() |
| প্রাক্তন (পর্ব ১১) |
প্রাক্তন (পর্ব ১১)মিশিতা চৌধুরী
মুনের হাতটা ধরে বললাম,"ভরসা করে হাতটা একটিবার ধরুন । সারাজীবন সেই ভরসার মর্যাদা রাখবো। জানেন মুন সত্যিকারের ভালবাসা পেয়ে গেলে মানুষ পরিপূর্ণ হয়। আজ নিজেকে খুব পরিপূর্ণ একজন মানুষ মনে হচ্ছে। পৃথিবীর সব সুখ যেন আমায় ঘিরে ধরেছে। একটা শান্তির স্বস্তিময় জীবন চেয়েছি।যা আজ পেলাম। আল্লাহ যা কেড়ে নে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ আপনাকে আমায় দান করেছেন। আপনি আমায় এই শীতলতার ছোঁয়া বেঁধে রাখবেন।কখনো হাতটা ছাড়বেন না ।
--কখনো ছাড়বো না
--এবার চলুন আপনার জন্য একটা উপহার আছে।"
মুনের জন্য স্পেশালভাবে রেস্টুরেন্টের ছাদটা বুকিং দিয়ে রেখেছি। ওখানে ঢুকতেই তিন্নি আর তন্ময় কেক নিয়ে আসলো। মুনের চোখে বাঁধা কাপড়টা খুলে দিলাম। তক্ষুনি মুনকে বললাম,
--শুভ জন্মদিন প্রিয়। আল্লাহ আপনাকে হাজার হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখুন। পৃথিবীর সমস্ত খুশি যেন আপনাকে জড়িয়ে রাখে।
--আপনি কিভাবে জানলেন আজ আমার জন্মদিন?তিন্নি বলেছে?
--জি ওরাই বলেছে। হাতটা দিন তো।
--কেন হাত দিয়ে কি করবেন?
--দিন না।
জোর করে হাতটা নিয়ে একটা রিং পরিয়ে দিলাম।
--পছন্দ হয়েছে মুন?
-খুব পছন্দ হয়েছে। আপনি এটা কখন কিনলেন?
-এটা তো সিক্রেট।
তিন্নি আর তন্ময় বলে উঠলো,হ্যাপি বার্থডে টু ইউ দোস্ত। ভাইয়াকে সাথে নিয়ে সারাজীবন খুব ভালো থাক। নে দোস্ত এই ছোট্ট উপহার তোর জন্য।
--কি শুরু করলি তোরা? তিন্নি তুই কি পাগল হয়ে গিয়েছিস।এতো দামি একটা উপহার কেন কিনতে গেলি?
--আরে তোর এতো বড় একটা স্মরণীয় দিন। কিছু না দিলে ব্যাপারটা জমে নাকি।অনেক প্রেম হয়েছে এবার কেকটা কাট তো।
মুন কেক কেটে সবাইকে খাওয়ালো। খুশিতে মেয়েটা কান্না করে দিয়েছে।আমি ওনাকে হাসানোর জন্য বললাম,
--এতো কান্নাকাটি করলে একটু পরে এই রেস্টুরেন্টটা পানিতে ডুবে যাবে। মুন আমি শুনেছি আপনি নাকি সাঁতার জানেন না?তখন তো আমার কোলে উঠে পার হতে হবে।
মুন হাসতে হাসতে বললো, নিজের বরের কোলেই তো উঠবো। শুনুন অনেক রাত হয়েছে বাসায় যাবো।আম্মু একা আছেন।
--হুম তিন্নিকে আগে পৌঁছে দিতে হবে।চলো তিন্নি।
তন্ময় বললো--ভাইয়া আমি তিন্নিকে পৌঁছে দেবো। আপনার কষ্ট করে যেতে হবে না ।এই সাঁকচুন্নি চল এবার।
--ভালো থাকিস মুন। আবার দেখা হবে।
--সাবধানে যাস তোরা। গিয়ে কল করবি।
--আসছি ভাইয়া। পাগলীটাকে দেখে রাখবেন।
--তিন্নি তুমি আর তন্ময় না থাকলে এতো কিছু সম্ভব হতো না। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। এই নাও এই ছোট উপহার টা তোমাদের জন্য।
--ভাইয়া এসবের আবার কি দরকার ছিল। আপনি তো আমাদের বড় ভাইয়ের মতো।
--তবে ধরে নাও ভাইয়ের পক্ষ থেকে উপহার।তোমরা কিন্তু আমাদের বাড়িতে যাবে। আর মাঝেমধ্যে আমাকেও তোমাদের সঙ্গে নিও আড্ডা দেওয়ার জন্য।
তিন্নি আর তন্ময় চলে গেছে।আমরাও বাড়িতে ফিরে এলাম। এসে দেখি আম্মু পায়েস নিয়ে বসে আছে।
--মুন মা একটু এদিকে আয় তো।
--আম্মু তুমি ওষুধ খেয়েছো। খালা তোমায় ওষুধ দিয়েছে।
--হ্যা রে মা খেয়েছি।আমার পাশে একটু বোস তো।
মুন মায়ের পাশে বসে আছে। আম্মু বলে হা কর দেখি।আম্মু মুনকে পায়েস খাওয়াতে খাওয়াতে বললো ,"সারাজীবন এমন হাসিখুশি থাকিস মা।আমার পাগলটাকে দেখে শুনে রাখিস।
আম্মু হাত থেকে বালা দুটো খুলে মুনের হাতে পরিয়ে দিলো। মুন আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বললো,"আম্মু এগুলো তুমি আমায় দিচ্ছো কেন?
--এগুলো আমার শাশুড়ি আমায় দিয়েছেন।আমি ভালোবেসে তোকে দিচ্ছি।যা এবার দুজনে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।আজ তোর পছন্দের সব খাবার রান্না করেছি।
আম্মু আর মুনের সম্পর্কটা আমার খুব ভালো লাগে। একদম নিজের মায়ের মতো আগলে রাখে। রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে রুমে গিয়ে বসে আছি। অনেকক্ষণ পরে মুন এসে বললো,
--আপনি এখনো জেগে আছেন কেন?কাল কি অফিসে যাবেন না? তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন বলছি।
--বউ! কাল ভাবছি অফিসে যাবো না।
--হিহিহি কি বললেন?
--অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,"কি বললাম?"
--জানেন রাশেদ বউ ডাকটা আমার খুব ভালো লাগে।
আমি মুনকে জড়িয়ে ধরে বললাম,"তাই নাকি বউ?"
--হুম।
--বঊ আমার না খুব প্রেম প্রেম পাচ্ছে।
--ইসসস। একদম না কিন্তু।
মুনের কপালে একটা চুমু দিয়ে কোলে তুলে নিলাম। বিছানায় শুইয়ে দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম।আজ থেকে পুরোপুরি মুন আমার হয়ে যাবে (ওমা সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?আমি জানি না এরপর কি হয়েছে। দেখলেন তো কেমন মুখের উপর রাশেদ দরজা আটকে দিলো।আমি কিন্তু কিচ্ছু দেখি নি হুঁ )
--রাশেদ এই রাশেদ উঠুন তো ।কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
--বঊ আরেকটু ঘুমাই।কাল তো ঘুমাতে দিলে না।
--আমি ঘুমাতে দেই নি?
--আসো বউ একটা চুমু খাই।দেখো আমার ঠোঁটটা কেমন শুকিয়ে গেছে। তোমার চুমুর অভাবে আমি যদি মারা যাই।
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই মুন আমার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।তিন মিনিট পর ছেড়ে বলল,
--আর কখনো যদি মরার কথা মুখে আনেন খারাপ হবে কিন্তু।
মুনকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা আদর দিয়ে বললাম,
--ভালোবাসি বউ। আপনাকে অনেক ভালবাসি আমার হৃদয়ের মহারানী। আমার বুকের বাঁ পাশের হাড্ডি চুন্নি।
---হিহিহি
মুনের গালে টুপ করে একটা চুমু দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম।মুন মুচকি হেসে বলল,"পাগল একটা"
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেয়ে নিলাম।
--মুন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিন।
--কেন? আজ তো কোথাও যাবো না।
--আজ সারাদিন আপনাকে নিয়ে ঘুরবো।
--সত্যি। কিন্তু আম্মুকে একা রেখে কিভাবে যাবো?
মুন মা তুই এতো ভাবছিস কেন?যা মা ঘুরে আয়। অনেক দিন কোথাও যাস না। ঘুরে এলে ভালো লাগবে।
--আচ্ছা আম্মু। তুমিও চলো আমাদের সাথে।
--না মা আমার তো বয়স হয়েছে।কোথাও যেতে ইচ্ছে হয় না।তুই ঘুরে এসে আমায় সব গল্প বলিস।
--মুন আপনি রেডি হয়ে আসুন।
একটু পরে মুন রেডি হয়ে নিচে এলো। অপূর্ব সুন্দরী লাগছে আমার বউটাকে।
--কি হলো সারাদিন এভাবে তাকিয়ে থাকলে ঘুরতে যাবো কখন?
--বঊ তোমায় খুব সুন্দর লাগছে গো। আমার তো ভয় হচ্ছে এতো সুন্দরী একটা বউকে রেখে আমি অফিসে থাকবো কি করে।
--হিহিহি । হয়েছে বর আপনার আর চিন্তা করতে হবে না।
আমি আপনার বউকে দেখেশুনে রাখবো।
একটু পরে আম্মুকে বলে মুনকে নিয়ে বের হলাম।
--আমরা কোথায় যাচ্ছি রাশেদ?
--জানি না তো।আজ সারাদিন এদিক ওদিক শুধু ঘুরবো। যতদূর ইচ্ছে হয় আপনার সাথে হারিয়ে যেতে চাই।
--চলুন তবে।
মুনকে নিয়ে সারাদিন ঘুরলাম। রাতে জোছনা উপভোগ করলাম। অসাধারন একটা মুহূর্ত কেটেছে।এমন সুখের সাগরে ভেসে ভেসে আমাদের দিনগুলো কাটছে। আমার জীবনটা এতোটা রঙিন হয়ে উঠবে আমার কল্পনাতেও ছিল না। কয়েকদিন পর দেখি.......
***চলবে***
