ডিভোর্স - ফারাবী আল স্বাধীন


ডিভোর্স - ফারাবী আল স্বাধীন
ডিভোর্স - ফারাবী আল স্বাধীন


ডিভোর্স
ফারাবী আল স্বাধীন


একটু খানি সুখ পাওয়ার যেই আশা ছিল সেই আশা টাও আজ দুঃখে পরিণত হলো অণুর। অণু কখনো মা হতে পারবে না ডাক্তার বলেছে। মা হতে না পারার কারণে অণুর স্বামী আজ তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। অণুর দু চোখের নোনা জল বাধ মানছে না। অণু চোখের জল মুছতে মুছতে ভাবছে এমনটাই কি হওয়ার ছিল? আমি তো এমনটা চাইনি। কি অদ্ভুত ব্যাপার তাই না?যেই মানুষটা ভালোবেসে আমায় বিয়ে করলো অথচ তাকে কখনো বাবা ডাক শুনাতে পারব না বিধায় সে আমার কঠিন সময়ে হাত দুটি শক্ত করে না ধরে উল্টো কি-না হাত টাই ছেড়ে দিল। 


ডিভোর্স নারীর জীবনের কালো একটা অধ্যায়। ওই নারীর জীবনের সবচেয়ে কঠিন একটা সময়। তাঁর জীবনের বড় একটা ধাক্কা। 

ডিভোর্স অতোটা কঠিন মূহুর্ত নয় ছেলেদের বেলায়। যতটা না অবলা নারীর বেলায় হয়।

ডিভোর্স হওয়ার পর ছেলেদের তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। কিন্তু একটা নারীর বেলায় সব উল্টো। ডিভোর্স হওয়ার পর একটা নারীকে কত কটুকথা শুনতে হয় তা একটা ডিভোর্সী নারীই যানে।


পৃথিবীতে তো এমন কতশত নারী আছে যাদের বাচ্চা হয় না। মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহন করতে পারে না। সেই মানুষগুলো যানে জীবন কি। তাঁরা ভালো থাকতে চাইলেও ভালো থাকা হয় না। প্রতি মূহুর্তে তাঁরা দুঃখ বিলাস করে।

আচ্ছা একটা বাচ্চায় কি দাম্পত্য জীবনে সুখের চাবিকাঠি? বাচ্চা ছাড়াও তো মানুষ চাইলেই সুখে থাকতে পারে। যদি একে অপেরের প্রতি থাকে মোহ ;ভালোবাসা। একটা বাচ্চার জন্য যেই মানুষটাকে আপনি ভালোবাসেন; তার সাথে কেমন করে বিচ্ছেদ করতে পারেন? আধো কি ভালোবাসা নামে কিছু আছে? আর তা থাকলেও তা ক্ষণিকের জন্য।

মানুষ বলে তার ভালোবাসা কখনে ফুরাবে  না। তবুও কেন যানি খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাই।


অণু সেদিনের পর থেকে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গিয়েছে। রোজ নিয়ম করে চোখের জল ফেলার কারণেই হয়তো এমনটা হয়েছে।

কতই না মায়াবী চেহারা ছিল অণুর। সহজ সরল একটা মেয়ে ছিল। অথচ তার ভালোবাসার মানুষটা তাকে বুঝতে পারেনি। বুঝতে পারেনি সন্তান ছাড়াও মানুষ সুখে বসবাস করছে অনন্তকাল। অণু এটা ভেবেই শান্তি পাই যে আমি সুখে নেই। অপর প্রান্তের মানুষটা সুখে থাকলেই হলো। মানুষ নিজে দুঃখে থাকলেও সে কখনো চায় না তাঁর প্রিয় মানুষ দুঃখে থাকুক।


আজ পঁচিশটি বছর পার হয়ে গেলো অণু একা ভিষণ একা। অতিতের কথা মনে পড়তেই বুকটা কেপে উঠলো অণুর। ভাবছে জীবনটা আরেকটু রঙিন হলেও পারতো।

অণু ভাঙা হৃদয়ে পাথর চাপা দিয়ে আজ এতোটা বছর পর মুখ ফুটে হাসি দিয়ে বলল জীবন ভীষণরকমের সুন্দর। যার উর্ধে সবকিছু। 


সমাপ্ত

Easin Arafat

Easin

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।

نموذج الاتصال