![]() |
| কাজলের বিয়ে - মিশিতা চৌধুরী |
কাজলের বিয়েমিশিতা চৌধুরী
আজ কাজলের বিয়ে।সব মেয়ের জন্য দিনটা খুবই স্পেশাল। কাজলের চোখে মুখে আনন্দের ফোয়ারা। রুপ যেন উপচে পড়ছে। ফর্সা গায়ে লাল টুকটুকে বেনারসী শাড়িতে আজ একটু বেশিই মায়াময়ী লাগছে।
"মাশআল্লাহ আমার মেয়েটাকে তো ভারি সুন্দর লাগছে।দেখি তো মা একটু কাজল পড়িয়ে দেই। কারোর যেন নজর না লাগে।"
মায়ের কথায় মৃদু হেসে উঠলো। বুকের বাঁ পাশটা চিনচিন করে উঠলো।
"বড়মা তাড়াতাড়ি এসো বর এসে গেছে। সবাই তোমাকে ডাকছে।"
"তুই যা আমি আসছি।"মা চলে গেল।
আয়নায় নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল কাজল।সত্যি নিজেকে আজ অপ্সরাদের চেয়ে কম কিছু লাগছে না। হঠাৎ করে মায়ের চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেল।
"এই প্রিয়া বিয়ের আসরে কি হয়েছে রে।মা এমন চিৎকার করছে কেন?"
"আপু তুমি এক্ষুনি বাইরে চলো। ভয়ঙ্কর কান্ড ঘটে গেছে।"
কাজল বিয়ের আসরে আসতেই অনিক এসে হাত ধরে বলল,"কাজল বিশ্বাস করো আমি কিছু করি নি।আমি তোমায় অনেক ভালবাসি। আমি ওই মেয়েটাকে চিনি না। কোথা থেকে আসল আমি কিচ্ছু জানি না।"
কাজল দেখলো একটু দূরে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার চাচ্চু মেয়েটার সাথে কথা বলছে।
পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল, "শান্ত হও।পানি টা খেয়ে নাও।"
অনিক ঢকঢক করে পানিটা খেয়ে নিল।"কি হয়েছে এবার বলো?"
অনিক আগের মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। মুখ দিয়ে টুঁ শব্দ বের হচ্ছে না।
কাজল রাগে চিৎকার করে বলল,"কি হলো মা তোমরা চুপ করে আছো কেন?কথা বলছো না কেন? অনিক কান্না করছে কেন?
"কাজল তুই ঘরে যা।তোর থাকার দরকার নেই"
"আমি কোথাও যাবো না। বলো আমায় সবটা"
একটু পরে কাজলের চাচ্চু এসে বলল, ভাইজান মেয়েটা যা যা বলছে সব সত্যি।ওর কাছে যথেষ্টে প্রমাণ আছে।
"কিসের প্রমাণের কথা বলছো চাচ্চু?"
কাজলের বাবা ওর দিকে একটা ফোন দিয়ে বলে"নে ধর ভিডিও টা দেখ।"
ফোনের স্ক্রিন তাকাতেই দেখে অনিক একটা মেয়ের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় আছে। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল। নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিল না।
"অনিক এসব কি?"
"বিশ্বাস করো কাজল। আমি এসবের কিছুই জানি না।"
"তুমি এক্ষুনি চলে যাও নইলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।"
অনিক আমার হাত চেপে ধরে রইল।আমি ওর হাত ছাড়িয়ে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিলাম।শাড়ি গহনা সব খুলে ফেললাম। ভীষণ রাগ হচ্ছে। কান্না গুলো জড়োসড়ো হয়ে ধেয়ে আসছে।
রাগটাকে কন্ট্রোল করে বারান্দায় এসে আকাশের দিকে চেয়ে রইলাম। মুচকি হেসে বললাম, আল্লাহ অনেক অনেক শুকরিয়া তোমার কাছে। সেদিন যদি রিমার সাথে দেখা করতে না যেতাম এতো বড় একটা সত্যের মুখোমুখি হতাম না। বিয়ের ঠিক পনের দিন আগে রিমার সাথে দেখা করতে হোটেলে যাই।ওর সাথে দেখা করে রাস্তায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।তখনই দেখি অনিক একটা মেয়েকে নিয়ে হোটেলে ঢুকছে। সন্দেহ দূর করার জন্য ওদের পিছু নিলাম।ওরা একটা রুমে ঢুকলো। নিজেদের নিয়ে তারা এতই ব্যস্ত ছিলো দরজা লক করতে ভুলে গেছে।আমি দরজা একটু ফাঁক করতে দেখি আমার হবু বর অন্য একটা মেয়ের সাথে। চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। তাড়াহুড়ো করে কয়েকটা ছবি আর একটা ভিডিও করলাম। ও হয়তো অস্বীকার করবে।বলবে এসব এডিট করা তাই হোটেল বুকিং এর ডেটসহ যাবতীয় প্রমাণ সাথে রাখলাম।আধ ঘন্টা পর দুজনে বের হয়ে দুদিকে গেল।আমি মেয়েটার পিছু নিলাম।পিছু নিতে নিতে দেখলাম মেয়েটা একটা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেছে।আমিও তার পেছনে পেছনে চলে গেলাম। ভেতরে গিয়ে দেখলাম মেয়েটা একটা লোকের পায়ের কাছে বসে কাকুতি মিনতি করছে।
--প্লিজ আমায় মাফ করে দাও।আমি আর তোমায় না বলে কোথাও যাবো না।
--ঠাসসসসস।ঠাসসস।তোর বড্ড সাহস বেড়েছে। আমার অনুমতি ছাড়া এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো আজ বের করছি।
--আমি মা কে দেখতে গিয়েছিলাম।দয়া করে আমায় মেরো না।
লোকটি মেয়েটাকে ধাক্বা দিয়ে বলল,"আর যদি কখনো দেখি সেদিনই তোর শেষ হবে।কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নে।"
লোকটা রেগেমেগে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।আমি আড়াল থেকে বেরিয়ে মেয়েটার সামনে গেলাম। মেয়েটা চোখের পানি মুছে বলল,"আপনি কে? এখানে কি করছেন?"
"আমায় আপনি চিনবেন না।তবে আপনি একটু আগে যার সাথে সময় কাটিয়ে এসেছেন উনি আমায় ভালোভাবে চেনে"।
"কি সব আজে বাজে কথা বলছেন?বের হন বাসা থেকে"।
"ছবিগুলো আমি আপনার হাসবেন্ডকেই দেখাই তবে।সেটাই মনে হয় ভালো হবে।"
"কিসের ছবি?"
মেয়েটাকে ছবিগুলো দেখালাম। মেয়েটা খুব ভয় পেয়ে গেল।"প্লীজ এগুলো কাউকে দেখাবেন না। আপনি যা বলবেন আমি সব শুনবো।"
মেয়েটাকে বিয়ের দিন আসতে বললাম।এসে কি কি করতে হবে বুঝিয়ে বললাম।বিয়ে শুরুর একটু আগে সবার ফোনে সেসব ভিডিও পাঠিয়ে দিলাম। ঐ মেয়েটার সাথে অনিকের বিয়ে হয়ে গেল।
"কাজল এই কাজল তাড়াতাড়ি ওঠ মা।দেখ কত বেলা হয়ে গেছে।আজ যে তোর বিয়ে ভুলে গেলি নাকি?"
দরজার কড়া নাড়ায় ঘুম ভেঙ্গে গেল।"আসছি আম্মু বলে দরজা খুলতে খুলতে ভাবলাম এতোক্ষণ তবে স্বপ্ন দেখছিলাম"!!!
***সমাপ্ত***
