![]() |
| প্রাক্তন (পর্ব ০৬) |
প্রাক্তন (পর্ব ০৬)মিশিতা চৌধুরী
মুন এসে বললো---
-আপনিও ফ্রেশ হয়ে নিন ।অযু করে আসুন। একসাথে নামাজ আদায় করবো। তারপর আপনার সব কথা শুনবো।
-হুম যাচ্ছি।
ফ্রেশ হয়ে এসে নামাজ পড়ে নিলাম।
-এবার বলুন কি বলতে চান?
-হুম কথাগুলো বলা জরুরি। নইলে শান্তি পাচ্ছিলাম না। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।
-আগে কথাগুলো শুরু করুন। তারপর আপনি অপরাধী কি না যাচাই করা যাবে।
-মুন আমি জানি না আমার ব্যাপারে আপনি কতটুকু জানেন। তবে আমি সবটা জানাতে চাই।
-হুম
-আপনার সাথে বিয়ে হওয়ার আগে আমার একটা একতরফা ভালোবাসা ছিল। এবং এখনো আছে। আমি তাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি।
-তাহলে আমায় বিয়ে করলেন কেন?তাকে করতে পারতেন।একটা সুখের জীবন কাটাতে পারতেন।
-ঐ যে বললাম একতরফা ভালোবাসা। শুধু আমি ভালোবেসেছি। সে আমায় বন্ধু ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারে নি।
-রাশেদ আমি আপনার আম্মুর কাছে সব শুনেছি। উনি আমায় সব বলেছেন। আমি স্বেচ্ছায় এই বিয়েতে রাজি হয়েছি। এই ব্যাপারটা শুধু আমার বাবা আর আমি জানি। আপনি এ ব্যাপারটা আমার পরিবারের অন্য কাউকে জানাবেন না প্লীজ। আমার মা জানলে অনেক কষ্ট পাবে।
-আমি কখনো আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না।
-সেটা একমাত্র আল্লাহ পাক ভালো জানেন।কার ভাগ্যে কি আছে কি ঘটবে। আপনি কি ভেবেছিলেন আমার সাথে বিয়ে হবে! নিজের স্বপ্নগুলো অন্য কাউকে নিয়ে সাজিয়েছেন সেখানে আমার কোনো জায়গা নেই।আমি সে জায়গাটা চাই না।
-আপনি এমন অনিশ্চিত জীবনে কেন জড়ালেন?
-মানুষের জীবনটা অনিশ্চিত। আমি জোর করে কিছু চাই না। নিজের যোগ্যতায় আদায় করতে জানি। আপনি হয়তো আমার সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
-হুম।
-ঠিক আছে ধীরে ধীরে সব জানবেন। তাড়াহুড়োর কিছু নেই। অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়েন।
-হুম আপনিও ঘুমান। শুভ রাত্রি
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঋতুকে কল দিলাম কিন্তু ফোনটা বন্ধ পাচ্ছি।গ্ৰামে হয়তো নেটওয়ার্ক সমস্যা।
-সকাল হতেই ফোন হাতে নেওয়া খুব খারাপ অভ্যাস। ফ্রেশ হয়ে কফি টা শেষ করে নিচে আসুন।সবাই অপেক্ষা করছে।
-হুম আসছি
খাওয়ার টেবিলে গিয়ে দেখি সবাই গল্প করছে।আম্মু আমার ছোট বেলার কথাগুলো বলছে। আমি চেয়ার টেনে বসলাম।"আম্মু আমার জরুরি কাজ আছে তাড়াতাড়ি খেতে দাও"।
-কাজ!! তোর তো ছুটি কয়েকদিন।
-হুম কিন্তু গতকাল বিদেশ থেকে কয়েকজন ক্লায়েন্ট এসেছে। ওদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং আছে।
-বাবা বলল, "আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম"
-রাশেদ বাবা সন্ধ্যায় মেহমান আসবে। তুই যদি না থাকিস সবাই কি ভাববে! তাছাড়া মুন মায়েরও খারাপ লাগবে।আজ না গেলে হয় না।
মুন বলল,"সমস্যা নেই মা ওনার কাজটা আগে।কেউ কিছু মনে করবে না!
-আম্মু আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো। তুমি চিন্তা করো না।
-ঠিক আছে ।
খাওয়া শেষ রুমে এসে দেখি প্রয়োজনীয় সব গুছিয়ে রাখা।কে রাখবে। আম্মু! না তো আম্মুকে বারণ করার পর গত কয়েকমাস তো আম্মু গুছিয়ে রাখে না। তবে কি মুন!!!
-রেডি হয়ে অফিসে চলে গেলাম। ঋতুকে অনেকগুলো কল দিলাম। কিন্তু ফোন বন্ধ । টেনশন আরো বাড়লো। মেয়েটা কি আমার উপর রাগ করেছে । নাহ রাগ করবে কেন। ও তো মুক্তি পেয়েছে আমার থেকে।
-দূর কি ভাবছি এগুলো। ওর কোনো বিপদ হয়নি তো!
অজস্র চিন্তা এসে ভর করলো মাথায়। কিভাবে খোঁজ নেবো মাথায় আসছে না। অফিসে গিয়ে মিটিং এর প্রস্তুতি নিলাম। একটু পরে পিএ এসে বললো,"স্যার ওনারা চলে এসেছেন।"
-ঠিক আছে সুমিত। আমি আসছি। তুমি রায়হান সাহেব আর আবির সাহেব কে বলো ওনাদের রিসিভ করতে।
-জি স্যার।
প্রায় তিন ঘন্টা ধরে প্রথম মিটিং চললো। মিটিং শেষে লাঞ্চ করবো এমন সময় অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো।
-হ্যালো কে বলছেন?
-এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলবে কিভাবে?
-ওহ আপনি!
-কেনো অন্য কাউকে আশা করেছিলেন?
-না তেমন কিছু না।
-খেয়েছেন?
-না মাত্র বসলাম। আপনি খেয়েছেন?
-না খাই নি। আপনি খাওয়া শেষ করে একটা মেসেজ দিয়েন।তারপর খেয়ে নেব।
-এসবের কি দরকার। খাবার নিয়ে বসুন। খেয়ে নিন।
-না মানে।
-কোনো মানে টানে বের করতে হবে না। সন্ধ্যায় অনেক ছোটাছুটি করবেন এখন না খেলে খারাপ লাগবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
দ্বিতীয় মিটিং শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আম্মু বার বার কল দিচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে বাসায় পৌঁছালাম। আত্নীয় স্বজন সবাই চলে এসেছে। আমি সবার সাথে কথা বলা শেষ করে রুমে আসলাম।
-কতো বার বললাম তাড়াতাড়ি আসতে তাও এতো দেরি করলি। ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়। সবাই তোকে খুঁজছে।
অনুষ্ঠান শেষ হলো রাত ১১ টায়। মুনের মা বাবা বললো ওনাদের বাসায় যেতে। কিন্তু মুন বললো আরো কয়েকটা দিন পর যাবে। সবাইকে বিদায় দিয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে শুতে গেলাম। এতো ব্যস্ততার মাঝেও ঋতুর কথা বারবার মনে পড়ছিল। কল করলাম ফোন বন্ধ। ওর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। মাঝরাতে কারোর কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কে কাঁদছে এতো রাতে...........
***চলবে***
